শুক্রবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৪

একটি পেন্সিলের গল্প



-পাউল কোয়েলহো


ঠাকুরমাকে চিঠি লিখতে দেখে নাতি প্রশ্ন করল, “আমরা যা ছি, তুমি কি তার গল্প লিখছ? গল্পটা কি আমাকে নিয়ে?” ঠাকুরমা তার লেখা বন্ধ করে নাতিকে উত্তর দিলো- “সত্যিই আমি তোমাকে নিয়ে লিখছি সোনা, তবে লেখার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, যে পেন্সিলটি দিয়ে লিখছি। আশা করছি তুমিও বড় হলে এই পেন্সিলটি পছন্দ করবে।“ 

উৎকর্ষতার সাথে নাতি পেন্সিলটি দেখল। এটা তার খাস পেন্সিল বলে মনে হচ্ছে না। “ কিন্তু এটা আমার অন্য পেন্সিলের মতই।“ 

“এটা তোমার দৃষ্টিভঙ্গির উপর নির্ভর করে। এটার পাঁচটি গুনাবলি আছে যা তুমি অন্তরে ধারণ করলে পৃথিবীতে শান্তিতে থাকবে। 

প্রথম গুনঃ তোমার মহান কিছু করার সামর্থ্য থাকবে তাই বলে কখনো ভুলবে না যে একটি হাত তোমার প্রতিটি পদক্ষেপকে প্রদর্শন করছে। সেই হাতকে আমরা বলি ঈশ্বর, আর তিঁনি সবসময় তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী আমাদের সঞ্চালন করেন।  
  
দ্বিতীয় গুনঃ কিছুক্ষণ লেখার পর লেখা বন্ধ করে পেন্সিলটি কেটে ধারাল করে নিতে হয়। এতে পেন্সিলটি খানিকটা ক্ষয় হয়, কিন্তু এরপর এটা আগের তুলনায় বেশি উপযোগী হয়। তুমিও তাই, তোমাকেও কিছু দুঃখ যন্ত্রণা সহ্য করতে শিখতে হবে কারণ এই শিক্ষাই তোমাকে একজন ভাল মানুষ তৈরি করবে।

তৃতীয় গুণঃ পেন্সিলে কোন ভুল লেখা আমরা সহজেই রাবার ঘষে মুছে ফেলতে পারি। তার মানে হল কোন কিছু সংশোধন করা খারাপ নয়, এটা আমাদের বিবেককে বিচারকের আসনে নিয়ে যায়। 
  
 চতুর্থ গুণঃ পেন্সিলের বাইরের কাঠ আসলে কিছু না, আসল হচ্ছে এর ভেতরের গ্রাফাইট। তেমনি অনুধাবন করবে তোমার অন্তরজগতে কি ঘটছে।

সবশেষে, পেন্সিলটির পঞ্চম গুণঃ পেন্সিলের লেখা সবসময়ই একটা চিহ্ন রেখে যায়। তেমনি জীবনে সব কাজ এমনভাবে করবে যার চিহ্ন থেকে যায়। তাই তোমাকে প্রতিটি কাজে অত্যন্ত সচেতন হতে হবে।  



1 টি মন্তব্য:

Anik বলেছেন...

এক কথায় অসাধারণ......

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন